65Please respect copyright.PENANATldKviKecp
রাত গভীর। শফিক ক্ষুধার যন্ত্রণায় ছটফট করছে।"
এমন সময় জুলু মিঞা সেখানে এসে লোহার কুটিরিটি খুলে দিয়ে বলল, "আপনি আমাকে বাঁচিয়েছেন, আপনাকে বলি দেওয়া আমি সহ্য করতে পারব না। প্রহরী রাতের খাবার খেতে গেছে। আপনি নিঃশব্দে পালিয়ে যান, আর অনুরোধ রইল, আপনি আমাদের রাজ্যের কোনো ক্ষতি করবেন না।"
শফিক বলল, "ঠিক আছে। কিন্তু আমাকে ছেড়ে দিয়েছেন, এটি যদি আপনাদের রাজা জানতে পারে, তাহলে তো আপনাকে মৃত্যুদণ্ড দেবে।"
জুলু মিঞা ধীর কণ্ঠে বলল, "হ্যাঁ। কিন্তু আপনি তো বেঁচে যাবেন।"
শফিক বলল, "না, আপনি আমার সাথে চলুন, আর আপনার পরিবার নিয়েও যেতে পারেন।"
জুলু মিঞা তার পরিবার নিয়ে দ্রুত শফিকের সাথে হাঁটা ধরল। তাদের মনে ছিল তীব্র ভয়। তাদের মধ্যে কোনো কথা নেই। তারা যখন শফিকের নৌকায় করে অলৌকিক দরজাটি পার হয়ে গেল, তখন যেন সকলের দেহে প্রাণ ফিরে এল। তারা সবাই বড় নদীতে শফিকের নৌকায় ভাসতে ভাসতে শফিকের বাড়ির দিকে চলল।
পথিমধ্যে শফিক জুলু মিঞাকে জিজ্ঞেস করল, "আপনাদের রাজা আমাকে বলি দিতে চেয়েছিল কেন?"
জুলু মিঞা বলল, "আজ থেকে অনেক বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষদের বসতি বন্যায় ভেসে যায়। তারপর তারা বন্যায় ভাসতে ভাসতে এই নদীর এক কোণে এসে পৌঁছায়। তখন ছিল শেষ রাতের প্রহর। সেই শেষ রাতে এই পাশের গ্রামের একজন মসজিদের ইমাম আমাদের পূর্বপুরুষদের দেখতে পান। পূর্বপুরুষেরা ইমাম সাহেবের কাছে সাহায্য চাইল। ইমাম সাহেব আমাদের নির্ধিধায় সাহায্য করেন। 'এই জগতে থাকলে আমাদের সমস্যা হবে' বলে তিনি আমরা যেই টিলাটির অলৌকিক দরজা দিয়ে বের হই এবং প্রবেশ করি, সেটি তিনি তৈরি করেন আল্লাহর রহমতে, এবং আমাদের বসতিটিও তৈরি করে দেন। এবং একজন ইমাম নিযুক্ত করেন। সে মসজিদে পাঁচবেলা আজান দিতো, নামাজ পড়াতো। এভাবে আমাদের জীবন ভালোই কাটছিল। কিন্তু কয়েক বছর পর। একটু চুপ থেকে বলে:
আসলে আমাদের বামুন জাতিদের অনেক ঘুম। বিশেষ করে শেষ রাতে। যার কারণে মসজিদের ইমামকে ফজরের আজানটি দিতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু ইমাম সাহেব এই কথাটি মানেননি। যার কারণে গভীর রাতে কয়েকজন যুবক মিলে ইমাম সাহেবকে হত্যা করে। এরপর থেকে আমাদের বসতিতে বিভিন্ন ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে—প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানবিক দুর্যোগ। এই বিপর্যয় থেকে বাঁচতে আমরা আমাদের বসতির এক মুরব্বীর শরণাপন্ন হই। তিনি পরামর্শ দেন—আমাদের পুরনো প্রথা, নারী ও পুরুষের শক্তি পরীক্ষার নিয়ম চালু করতে এবং প্রতি দশকে এমন নারী জন্মাবে, যার সাথে কোনো পুরুষ টিকতে পারবে না। যে টিকে যাবে, তাকে বলি দেওয়া হবে। সেখান থেকেই এই বলির প্রথা চলে আসছে।"
শফিক কৌতূহলী কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, "আপনি জানেন কি, আপনাদের বসতি তৈরি করা ইমামের নাম কী ছিল?"
জুলু মিঞা বলল, "তাঁর নাম ছিল ইমাম আইয়ুব।"
কথাটি শুনে শফিক চমকিত হলো। সে বলল, "তিনি তো আমাদেরই পূর্বপুরুষ! তাহলে কি আমরাই এই গ্রামের প্রধান এবং উঁচু জাতির লোক?"
জুলু মিঞা কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল, "আপনারা উঁচু জাতি মানে?"
শফিক বলল, "আজ থেকে অনেক বছর আগে দুইজন ব্যক্তি ছিল—একজন আইয়ুব আর একজন রফিক। এই দুজনের মধ্যে যে ইমাম ছিল তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম উঁচু জাতির। আমাদের গ্রামের সকলে জানে, রফিক ইমাম ছিল, যার কারণে আমাদের পাশের বংশের লোকজন উঁচু জাতির। আপনি বলছেন, আইয়ুব ইমাম ছিল। তিনি তো আমাদেরই বংশের লোক! তাহলে তো আমরাই উঁচু জাতি।"
ওদিকে বামুনদের রাজ্যে: প্রহরী কাঁপতে কাঁপতে রাজার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। আর বলল, "মহারাজ, সর্বনাশ হয়েছে! সেই দৈত্য লোকটি পালিয়ে গেছে!"
রাজা গর্জে উঠলেন, "পালিয়ে গেছে মানে? ওই দুর্ভেদ্য খাঁচা থেকে সে পালাল কীভাবে?"
65Please respect copyright.PENANA7zagP88RuM
পাশ থেকে মন্ত্রী চিন্তিত মুখে বললেন, "মহারাজ, দৈত্যটিকে দ্রুত খুঁজে বের করতেই হবে না হলে কিন্তু আপনার ছেলেরই বলি দিতে হবে কারণ একমাত্র আপনার ছেলেই পেরেছিল রুপালী কে হারাতে।
রাজার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। ক্রোধে অন্ধ হয়ে তিনি প্রহরীকে বললেন, "আমার চোখের সামনে থেকে দূর হ! যদি কাল সূর্য ওঠার আগে সেই দৈত্যকে খুঁজে না পাস, তবে তোর গর্দান যাবে!"
ভীত প্রহরী দ্রুত সৈন্য নিয়ে শফিককে খুজতে বের হলো।
চলবে.....
ns216.73.217.54da2


