শফিক ধীর কন্ঠে জুলু মিঞাকে বললো, কোথায় আপনাদের বসতি।
73Please respect copyright.PENANAvIRTurTNny
জুলু মিঞা শফিককে বলল, "এই যে আরেকটু সামনেই আমাদের রাজ্য। দুই-তিন বৈঠা মারলেই আমরা পৌঁছে যাব।"
73Please respect copyright.PENANAfWZ8tWKoz7
শফিক দুই-তিন বৈঠা মেরেই পৌঁছে যায় জুলু মিঞাদের গোপন রাজ্যের নদীতে। নদীটি ছিল খুব ছোট, প্রায় শফিকের বড় নৌকার সমপরিমাণ।
73Please respect copyright.PENANAaq0t5bPfYY
জুলু মিঞা বলল, "এই যে সামনেই আমাদের বসতি। এখান থেকে হেঁটে যেতে হবে।"
73Please respect copyright.PENANAkZH4Mx9Vg2
তারা নদীর তীরে নেমে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যায় জুলু মিঞাদের বসতিতে। বসতিটি দেখে শফিক আবারও বিস্ময়ে অভিভূত—এ যেন গল্পে পড়া বামুনদের বসতভূমি! শয়ে শয়ে ক্ষুদ্র মানুষ শফিককে দেখে ভয়ে এদিক সেদিক ছুটতে লাগল।
73Please respect copyright.PENANA9YUndfJjW0
জুলু মিঞা তখন সবাইকে ডাক দিয়ে বলল, "তোমরা ভয় পেয়ো না। ইনি হলেন একজন বীর, যিনি আমাকে এই বড় মাছটি থেকে বাঁচিয়েছেন এবং মাছটি স্বীকার করেছেন।"
73Please respect copyright.PENANAFHVpX2Hnql
বামুনরা সাহস করে বাইরে এলো। শফিকের পায়ের কাছে আসন পেতে দেওয়া হলো। শফিক বসতেই বামুন মহিলারা রান্নার আয়োজন শুরু করল।
73Please respect copyright.PENANAKo9hQWh3ZZ
জুলু মিঞা শফিককে বলল, "হুম... হুম... এখন আপনার শিকার করা মাছ রান্না করা হবে। কিন্তু আমরা তো এত বড় মাছ সহজে কাটতে পারব না। দয়া করে মাছটি আপনি কেটে দিবেন।"
73Please respect copyright.PENANA6ExQwLvt5G
শফিক মাছটি নিয়ে মুহূর্তেই টুকরো টুকরো করে কেটে দিল।
73Please respect copyright.PENANAHILRcfjAah
এটি দেখে বামুনরা ভয়ে ও বিস্ময়ে হাততালি দিতে লাগল, আর বললো"ও কী শক্তি! দৈত্যের ক্ষমতা!"
73Please respect copyright.PENANAbgpRCnEKEB
তারপর মাছটি রান্না করা হলো। খাবার খেয়ে শফিক বলল, "আহা! কী চমৎকার স্বাদ! নদীর টাটকা মাছের স্বাদই অন্যরকম!" শফিকের কথা শুনে বামুনরা খাবার চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল।
73Please respect copyright.PENANAc1HluMlSuQ
এরপর জুলু মিঞার বিশেষ আদেশে তার মেয়ে রূপালি সামনে এলো। সে এতটাই রূপবতী যে শফিকের চোখ ধাঁধিয়ে গেল। তার চুলগুলো ছিল কচি কলা পাতার মতো মসৃণ, আর চোখগুলো যেন কাজল দিয়ে আঁকা।
73Please respect copyright.PENANAJX3WG5PU05
জুলু মিঞা বলল, "হুম... হুম... আমার মেয়ে অনেক রূপবতী, তাই না? কিন্তু তার শরীরে এক ডজনের শক্তি। বহু পুরুষ তাকে পাওয়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তার কাছে মার খেয়ে সবাই পালিয়ে গেছে। আমার মনে হয়, আমার মেয়ের সাথে আপনিই পারবেন,আপনিই ।"
73Please respect copyright.PENANAseiOtprXtV
শফিকের মনে এবার সন্দেহ ও কৌতূহল মেশানো এক দ্বন্দ্ব তৈরি হলো। বামুনদের এই রহস্যময় শক্তিধর কন্যা, যার রূপে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই, কিন্তু তার শক্তি নিয়ে তার বাবা বারবার সতর্ক করছেন কেন!
73Please respect copyright.PENANAnWShf8VR4A
গভীর রাতে বামুনরা সবাই ঘুমিয়ে পড়লে শফিক রূপালির ঘরে গেল। আলো আঁধারীতে রূপালি জানালার পাশে বসে রয়েছে।
73Please respect copyright.PENANAFXKM7cGYzB
শফিককে দেখে রূপালি বলল, "আপনি এত বিশাল কেন, আর আমি এত ছোট কেন? আপনি কি সত্যিই আমাকে নিতে এসেছেন?"
73Please respect copyright.PENANAo4t28WYKAg
শফিক গম্ভীর কণ্ঠে বলল, "হ্যাঁ।"
73Please respect copyright.PENANAUJGIKFF3WZ
রূপালি হাসল আর বলল, "ঠিক আছে, নিন... যদি পারেন।" রূপালি যেন শফিককে চ্যালেঞ্জ করল।
73Please respect copyright.PENANAhTyoP5UH8f
শফিক তাকে কাছে টানতে গেল। রূপালি তার শক্তিশালী ছোট দুটো হাত দিয়ে শফিককে এমন ধাক্কা মারলো যে, শফিক আট ফুট পিছিয়ে গিয়ে মাটির দেওয়ালে ধাক্কা খেলো। শফিক স্তম্ভিত! এক মুহূর্তের জন্য তার বিশাল শক্তি বামুন কন্যার কাছে হার মেনে গেল!
73Please respect copyright.PENANAEuEGr2OfzH
রূপালির ধাক্কাটি শফিকের শক্তি ও অহংকার এক মুহূর্তের জন্য গুঁড়িয়ে দিল। সে মাটির দেওয়ালে ঠাস করে বসে পড়লো। শফিক অনুভব করল, সামান্য এক ধাক্কায় তার বিশাল শরীর যেন বিদ্যুতের শক বয়ে গেছে। তার সম্পূর্ণ জীবনে এমন অপ্রত্যাশিত আঘাত কখনো পায়নি সে।
73Please respect copyright.PENANA3NrayDGvpx
লিলিপুট কন্যা রূপালি মৃদু হাসল। তার হাসি যেন শফিকের বিরাটত্বকে উপহাস করছে।
73Please respect copyright.PENANAs2AS2lV2vW
73Please respect copyright.PENANApGqiz1enLZ
রূপালি শান্ত কণ্ঠে বলল, "কী হলো? আপনি যে এত সহজেই হার মেনে নিলেন!"
73Please respect copyright.PENANAdn1gkmoeb1
শফিকের চোখ জ্বলে উঠলো। সে এত সহজে হার মানতে পারে না। সে উঠে দাঁড়ালো। তারপর সে সাবধানে রূপালির দিকে হাত বাড়ালো, তার শক্তিকে সম্মান জানিয়ে। শফিক রূপালিকে প্রশ্ন করল, "তুমি কি সত্যিই আমাকে চাও না, রূপালি?"
73Please respect copyright.PENANAmLcvWJICwu
রূপালি কোনো উত্তর না দিয়ে বলল, "আমাদের সমাজে নারী-পুরুষের বিবাহের আগে শক্তির পরীক্ষা দিতে হয়। যিনি আমাকে হারাতে পারবেন, কেবল তিনিই আমার স্বামী হবেন।"
73Please respect copyright.PENANA2JdGbe4JUA
এইবার শফিক তার সমস্ত শক্তি এক হাতে জড়ো করল। সে জানে, এই ছোট শরীরে এত শক্তি লুকিয়ে থাকতে পারে না। এটি নির্ঘাত কোনো জাদু বা মন্ত্রের ফল। শফিক তার এক হাত রূপালির কাঁধের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেল।
73Please respect copyright.PENANAFGC7w91Qy3
কিন্তু যেই না তার হাত রূপালির শরীর স্পর্শ করল, অমনি রূপালি অপ্রত্যাশিত দ্রুততায় তার হাতের নিচে সরে গেল এবং একই সঙ্গে শফিকের হাঁটুতে এমন জোরে চাপ দিল যে, শফিকের বিশাল দেহ নড়ে উঠলো এবং ধুপ করে শফিক মাটিতে আছাড় খেলো।
73Please respect copyright.PENANAy234BWri50
এই সবকিছু রূপালির বাবা-মা বাইরে থেকে দেখছিল। পরাজিত শফিকের দিকে জুলু মিঞা ও তার স্ত্রী এগিয়ে এলো। তাদের চোখে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগ।
73Please respect copyright.PENANAudBMBCLJWn
জুলু মিঞা বলল, "আপনার যে এমন শক্তি, আমাদের জানা ছিল না! আপনিই আমার মেয়ের স্বামী হওয়ার যোগ্য!"
73Please respect copyright.PENANAro496Ra9Lv
শফিক হতভম্ব হয়ে বলল, "আমি তো হেরে গেলাম!"
73Please respect copyright.PENANA5UesHaHsEI
জুলু মিঞা হেসে বলল, "না, আপনি আমাদের মর্যাদা রক্ষা করেছেন। এর আগে যারা রূপালির কাছে শক্তি পরীক্ষা দিতে এসেছিল, তারা সবাই রূপালির ধাক্কা খেয়ে গুরুতর আহত হয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে তারা আর ফেরেনি। আপনিই প্রথম যিনি মার খেয়েও হার মানেননি। যার কারণে আপনিই হলেন আমার মেয়ের যোগ্য স্বামী!"
73Please respect copyright.PENANAncLVtbWMfH
কথাগুলো শুনে যেন শফিক বিস্মিত হয়ে গেলো । সে মনে মনে কৌতূহলী হয়ে ভাবে—এত ছোট মেয়ের এত শক্তি কোথা থেকে এলো? এর উৎসহই বা কী? এটি জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগল শফিকের মনে।
73Please respect copyright.PENANAXYZ1K0tmZL
পরের দিন সকালবেলা।
73Please respect copyright.PENANAxJuWC8U8cn
শফিক দেখল, সে লোহার কুটিরে বন্দি। বাইরে প্রহরী পাহারা দিচ্ছে তাকে।
73Please respect copyright.PENANAC72jiZmDaZ
শফিক প্রহরীকে জিজ্ঞেস করল, "আমি এখানে বন্দি কেন? উচ্ছস্বরে বলল, দ্রুত তালা খোলো!"
73Please respect copyright.PENANAyKqOPqmoYF
প্রহরী বলল, না, "আপনাকে লোহার কুটিরে আটকে রাখা হয়েছে। কারণ, আপনাকে দুই-তিন দিন ধরে কোনো খাবার দেওয়া হবে না। না খেয়ে আপনি দুর্বল হয়ে যাবেন, তারপর আপনাকে বলি দেওয়া হবে!"
73Please respect copyright.PENANAnZAIkCZvt5
কথাটি শুনে শফিকের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল! শফিক কম্পিত কন্ঠে প্রহরীকে জিজ্ঞেস করল, "বলি? আমাকে বলি দেবে কেন?
73Please respect copyright.PENANAOUcmVpY2Vc
প্রহরী বলল, "রাজার আদেশ।
73Please respect copyright.PENANA9hXvTkwNLC
চলবে…
73Please respect copyright.PENANA8Db9rngyRc
গল্পটির পরবর্তী পর্ব পেতে ফলো করে রাখুন।
73Please respect copyright.PENANA4phR3FyNwG
73Please respect copyright.PENANArdx8hjHe5k


