নিস্তব্ধ নদীর মাঝ দিয়ে জুলু মিঞা এবং শফিক, জুলু মিঞাদের রহস্যময় দ্বীপের দিকে যাচ্ছে। জুলু মিঞার ছোট্ট নৌকাটি শফিকের বড় নৌকার পেছনে বাঁধা।
শফিক কান্না জড়িত কণ্ঠে জুলু মিঞাকে জিজ্ঞেস করল, "আপনাদের দ্বীপটি আর কত দূরে?"
"প্রায় চলে এসেছি," জুলু মিঞা বলল। শফিকের ভেজা চোখ দেখে সে নরম স্বরে প্রশ্ন করল, "আপনার কী হয়েছে?"
শফিক বলল, "কিছু না।"
জুলু মিঞা অনুরোধ করে বলল, "আপনার চোখে জল, বলুন না কী হয়েছে? বলতে বলতে আমরা পৌঁছে যাব।"
শফিক তখন বেদনাভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলতে শুরু করল, "আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার মা এক ধনী বাড়িতে কাজ করত। সেই বাড়িতে আমার বয়সী একটি মেয়ে ছিল, তার নাম ছিলো রিয়া। মায়ের সাথে প্রতিদিন তাদের বাড়ি যেতাম, যার কারণে আমাদের দুজনের মধ্যে ভালো বন্ধুত্বের তৈরি হয়। বড় হতে হতে কখন যে আমাদের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে ভালোবাসায় রূপান্তরিত হয়েছে, বুঝতে পারিনি। একদিন আমাদের ভালোবাসার কথা রিয়ার বাবা-মা জেনে যায়। রিয়ারা হলো উঁচু জাতির, আর আমরা হলাম নিচু জাতির। যার কারণে রিয়ার বাবা-মা আমাদের ভালোবাসা মেনে নেয়নি। আর আজ রিয়ার বিবাহ।"
কথাগুলো নিস্তব্ধ হয়ে শুনছিল জুলু মিঞা। সে শফিককে ধীর কণ্ঠে বলল, "ওই যে দূরে দেখছেন একটি টিলা, ওই জায়গাতেই আমাদের রাজ্য।"
শফিক দ্রুত বৈঠা মারতে মারতে সেই দূরের বড় টিলাটির সামনে পৌঁছাল। শফিক জুলু মিঞাকে প্রশ্ন করল, "কোথায় আপনাদের রাজ্য?"
"একটু ধৈর্য ধরুন," জুলু মিঞা বলল।
জুলু মিঞা টিলাটির সামনে দাঁড়িয়ে বলল, "ইয়া রহমানু ইফতাহিলবাব! ইয়া রহমানু ইফতাহিলবাব!"
এটি বলার পর মুহূর্তেই টিলার বুক চিরে অলৌকিকভাবে এক বিরাট দরজা খুলে গেল। ভেতরে দেখা গেল একটি গোপন খাল । দৃশ্যটি দেখে শফিক বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল।
জুলু মিঞা বলল, "এবার টিলার ভিতর দিয়ে নৌকা নিয়েই যেতে হবে।"
শফিক নিস্তব্ধ হয়ে রইল, যেন তার কানে কথাটি পৌঁছায়নি।
জুলু মিঞা শফিকের শরীরে স্পর্শ করে বলল, "কী হলো, চলুন!"
স্পর্শ করা মাত্রই শফিক চমকে উঠল এবং বলল, "হ্যাঁ, হ্যাঁ, চলুন।"
শফিক নৌকা চালিয়ে টিলার ভিতরে প্রবেশ করল।
জুলু মিঞা বলল, "এবার একটু থামুন।" জুলু মিঞা টিলার দিকে ফিরে আবার বলল, "ইয়া রহমানু আগলিকিলবাব! ইয়া রহমানু আগলিকিলবাব!"
সাথে সাথে সেই প্রকাণ্ড পাথুরে দরজাটি সশব্দে বন্ধ হয়ে গেল। বাইরের জগতের সাথে শফিকের শেষ সংযোগটুকুও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। চারদিকে ঘিরে ধরল এক রহস্যময় নিস্তব্ধতা।
80Please respect copyright.PENANAnGm4ERytHS
পাথুরে দরজাটি বন্ধ হওয়ার পর শফিকের কেমন যেন দম বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো।
চলবে…
গল্পটি পরবর্তী পর্ব পেতে ফলো করে রাখুন।
ns216.73.217.54da2


