সাজসজ্জা শেষে রিয়া আয়নার সামনে নিশ্চল বসে আছে। চারপাশে কোলাহল—লোকজনের গুঞ্জন, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার শব্দ—কিন্তু রিয়া যেন হারিয়ে গেছে ভিন্ন এক জগতে। তার দু'চোখে জল টলমল করছে, যেন প্রবল কষ্টের ঢেউ বইছে তার মনে।
78Please respect copyright.PENANAtU7oDCQrey
এমন সময় রিয়ার হবু শাশুড়ি ঘরে ঢুকলেন। রিয়ার চোখে জল দেখে তিনি রিয়ার মাকে জিজ্ঞেস করলেন, "বিয়ের দিনে মেয়ে এমন কান্না করছে কেন?এটা তো অমঙ্গলের লক্ষণ!"
78Please respect copyright.PENANAiQQAAUtWdJ
রিয়ার মা কিছুটা ইতস্তত করে বললেন, "আমাদের একমাত্র মেয়ে রিয়া। সে তো কোনোদিনও আমাদের ছাড়া কোথাও থাকেনি। ওর একটু মায়া লাগছে হয়তো আমাদের জন্য। কিছুদিন পরে সব ঠিক হয়ে যাবে।"
78Please respect copyright.PENANACtRdG1QrxK
রিয়ার হবু শাশুড়ি সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর রিয়ার মা মেয়ের কাছে এগিয়ে এলেন। তিনি রিয়ার কানে ফিসফিস করে রাগান্বিত কণ্ঠে বললেন, "তুমি এখনো শফিকের কথা ভাবছো? সে হলো নগণ্য এক জেলে! তোমার বাবার সমাজে একটা মান-সম্মান আছে, জানো তো? তার একমাত্র মেয়েকে সে কীভাবে একটা জেলের হাতে তুলে দেবে? এতে মানুষ কী বলবে? তুমি যত তাড়াতাড়ি শফিককে ভুলে যাবে, ততই তোমার জন্য ভালো।"
78Please respect copyright.PENANAIVWHNLYn7g
রিয়া ধীরে ধীরে হাতের মুষ্টিটি খুলল। তার হাতে ছিল শফিকের দেওয়া একটি ছোট্ট লকেট। সেই লকেটের দিকে সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। রিয়ার চোখের এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল লকেটের উপর।
এটি দেখে সঙ্গে সঙ্গে রিয়ার মা রিয়ার হাতে থাকা লকেটটি হেঁচকা টান দিয়ে নিয়ে গেলেন এবং দ্রুত রান্নাঘরে গিয়ে সেটি চুলার জ্বলন্ত আগুনে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন।
নদীর মাঝে জাল ফেলে নৌকায় বসে রয়েছে শফিক। তার মনে আগুন জ্বলছে—বিচ্ছেদের আগুন। দূরে দেখা যাচ্ছে রিয়া—দের বাড়ি—সাজসজ্জার আলো জ্বলছে। আর শফিকের চোখে জল টলমল করছে। বাতাসে একটা গম্ভীর ভাব। শফিকের মনের দর্পনে রিয়ার স্মৃতি ভাসছে।
ঠিক এমন সময় হঠাৎ একজন মানুষের চিৎকারের শব্দ শুনতে পেল শফিক। কিন্তু আশেপাশে কোনো মানুষ নেই। শফিক তার জালে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করল।
ওটা কি কোনো ডিঙি নৌকা? কিন্তু এত ছোট নৌকা তো সাধারণত কোনো জেলেরা ব্যবহার করে না! শফিক কৌতূহলী হয়ে দুই-তিন বৈঠা মেরে জালের কাছে গেল। শফিক যখন জালের কাছে পৌঁছাল, তখন সে দেখল—সেটা সত্যিই একটি ডিঙি নৌকা, কিন্তু শফিকের কাছে সেটি যেন একটি খেলনা। আর ভেতরে যে বসে আছে, তাকে দেখে যেন শফিকের চোখ কপালে উঠল।
"কে তুমি? এই ভরা নদীতে এতটুকু নৌকায় একলা?"—শফিকের গলার স্বর শুনে লোকটি চমকে উঠল।
লোকটি ছিল ক্ষুদ্রাকৃতির, যেন বছর তিনেকের কোনো শিশু, তবে তার মুখ ও পোশাকে বয়সের ছাপ স্পষ্ট। তার চোখগুলো ছিল বড়, কৌতূহলী ও ভয় মেশানো।
লোকটি ভীত কন্ঠে বলল, "আমি জুলু মিঞা। আমি আমাদের গোপন দ্বীপের দিকে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে একটি বিশাল আকৃতির মাছ আমাকে তাড়া করে। আমি দ্রুত নৌকা চালাতে চালাতে তোমার জালে আটকা পড়ি। তুমি এসে না বাঁচালে মাছটি আমাকে খেয়ে ফেলত, না হয় জালে আটকে দম বন্ধ হয়ে মারা যেতাম!"
শফিক লক্ষ্য করল, বড় মাছটি তার জালেই ধরা পড়েছে। শফিক জাল থেকে মাছটি ছাড়িয়ে নিজের নৌকাতে উঠাল।
এটি দেখে জুলু মিঞা খুশিতে চিৎকার করে উঠল, "কী শক্তি! আপনি মানুষ নন, আপনি যেন দৈত্য!"
তারপর জুলু মিঞা ইতস্তত করে বলল, "আপনি কী আমাদের বাড়িতে মেহমান হবেন? আমাদের বসতি এই নদীর কাছেই এক লুকানো টিলার মাঝে।"
শফিকের মনে এক গোপন কৌতূহল জাগল। সে বলল, "ঠিক আছে, চলুন তো দেখি আপনাদের দ্বীপটি এবং লোকগুলো কেমন।"
শফিক এবং জুলু মিঞা, শফিকের বড় নৌকায় করে জুলু মিঞার দ্বীপের দিকে যেতে লাগল।
পথিমধ্যে জুলু মিঞা বলল, "আমার এক অত্যন্ত সুন্দরী কন্যা আছে, তার নাম রূপালি। রূপালির দিকে বহু দৈত্যের নজর ছিল, কিন্তু রূপালির বিরাট শক্তি। কেউ তাকে কাবু করতে পারেনি। আমাদের রাজ্যে একটি নিয়ম আছে—যেই পুরুষ যেই মেয়েটিকে কাবু করতে পারবে, সেই পুরুষ তাকে বিবাহ করবে।"
শফিকের মনে এইবার এক তিক্ত কৌতুহল জেগে উঠল। সে মনে মনে ভাবল, এইটুকু মেয়ের আবার কত শক্তি হতে পারে? সে হালকা কটাক্ষের হাসি হাসল।
হঠাৎ করে শফিকের মুখটা মলিন হয়ে গেল। সে পেছনের দিকে তাকিয়ে দূরে রিয়া–দের বাড়ি দেখল। বাড়ির সমস্ত আলো নিভে গেছে। শফিক মনে-মনে ভাবল, রিয়ার কি বিয়ে হয়ে গেছে? তার জন্যই সমস্ত আলো বন্ধ হয়ে গেছে? কিন্ত বিয়ে বাড়িতে তো রাতভর আলোকসজ্জা থাকে, তবে কি কারেন্ট চলে গেছে? নাকি অন্য কিছু ঘটেছে?
চলবে....
গল্পের পরবর্তীতে পর্ব পেতে ফলো করে রাখুন ।
ns216.73.216.217da2


